বাড়ির সবচেয়ে বেশি ঝক্কিটা রান্নাঘরের ওপর দিয়েই যায়। কারণ রান্নাবান্না-ধোয়ামোছায় আগুন ও জলের ব্যবহার তো নিত্য। এ জন্য সবচেয়ে বেশি নোংরাও হয় রান্নাঘর। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে রান্নাঘরের চারপাশে ওত পেতে থাকে তেলাপোকা, পিঁপড়া, মাছি, টিকটিকিসহ আরো নানা রকম পোকা-মাকড়।এসব অনাহূত অতিথির আগমনে স্বাদের রান্নার বারোটা তো বাজবেই আবার নোংরা খাবার খাওয়ার পরে রীতিমতো অসুখেও ভোগাবে।এ জন্য আগে থেকেই রান্নাঘরে এ ধরনের পোকামাকড়ের আগমন বন্ধ করা দরকার। কিন্তু কীভাবে? জানুন-
এয়ার টাইট কন্টেইনারের ব্যবহার
দোকান থেকে কিনে এনে প্যাকেটের ভেতরেই অনেকে রেখে দেন আটা, ময়দা, সুজি, ডাল ইত্যাদি। পাতলা কাগজ বা প্লাস্টিকের প্যাকেট কেটে সহজেই এগুলোর ভেতরে বাসা বাঁধতে পারে পোকা। এ কারণে যত দ্রুত সম্ভব এগুলোকে রাখুন এয়ারটাইট প্লাস্টিক বা কাঁচের কৌটায়। এছাড়া ডাস্টবিন হিসেবেও ব্যবহার করুন এয়ারটাইট কন্টেইনার বা ব্যাগ।
ফল ও সবজি কিনে ফেলে রাখবেন না
অনেকেই ডাইনিং টেবিলে একটা ফ্রুট বোল সাজিয়ে রাখেন রঙ্গিন ফল দিয়ে। এতে ঘরটা যেমন উজ্জ্বল দেখা যায় তেমন চোখের সামনে থাকায় নিয়মিত ফল খাওয়া হয়। কিন্তু ফল বেশিদিন ফেলে রাখলে তা পেকে গিয়ে পোকা আকর্ষণ করতে পারে। ফল বেশি পাকা বা পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সেগুলো রেফ্রিজারেটরে রাখুন।
খাবারের গুঁড়ো ও ছড়িয়ে পড়া পানীয়
খাওয়ার সময়ে খাবারে ছোট টুকরো, গুঁড়ো ছড়িয়ে পড়তে পারে রান্নাঘরে। আর রান্নার সময়ে ঝোল, স্যুপ বা দুধ হাঁড়ি থেকে উপচে পড়াটাও একেবারেই নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এগুলো আপনার চোখে পড়ার সাথে সাথে পরিষ্কার করে ফেলুন। শুধু তাই নয়, কিচেন কাউন্টারটপ, কেবিনেট, মিটসেফ, ডাইনিং টেবিল নিয়মিত মুছে পরিষ্কার রাখুন। খাবারের টুকরো আপনার চোখ এড়াতে পারে, কিন্তু পোকারা তা ঠিকই খুঁজে বের করবে।
কাপবোর্ড পরিষ্কার রাখুন
কাপবোর্ডের ভেতরে সাধারণত তৈজসপত্র, খাবারের কৌটা, মশলার কৌটা রাখা হয়। আমরা ভাবি যেহেতু এখানে শুধু শুকনো খাবার থাকে, তা পরিষ্কারের দরকার নেই। আসলে কিন্তু এই অন্ধকার, ছোট জায়গাটায় সহজেই পোকারা আস্তানা গাড়তে পারে। বিশেষ করে পুরনো অব্যবহৃত কৌটা, মেয়াদোত্তীর্নো খাবার এগুলো পোকার আখড়া। এ কারণে নিয়মিত কাপবোর্ড পরিষ্কার করুন।