গরমে শরীর ‘ডিটক্স’ করতে চান? তেতো চিরতার জলের বিকল্প আর কী কী হতে পারে?

28th March 2024 12:00 am Country News
গরমে শরীর ‘ডিটক্স’ করতে চান? তেতো চিরতার জলের বিকল্প আর কী কী হতে পারে?


মানুষের দেহে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে শিরা এবং ধমনী। ধমনীর মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত বিশুদ্ধ রক্ত শরীরের প্রতিটি অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য দিকে শিরা দূষিত রক্ত বহন করে। তবে বিশুদ্ধ রক্তে টক্সিনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে নানা ধরনের দূষণ, খাবারে থাকা ভেজাল । সেই রক্তই শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে সঞ্চালিত হলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। সংক্রমণের মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বার করে দেওয়ার কাজ করে লিভার এবং কিডনি। কিন্তু রক্তে টক্সিনের মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে গেলে ছাঁকার কাজ সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। পুরো ব্যবস্থাই বিকল হয়ে পড়ে। রক্ত পরিশুদ্ধ করতে অনেক বাড়িতেই চিরতা ভেজানো জল খাওয়ার চল রয়েছে। চিরতার তেতো স্বাদ পছন্দ না হলে জেনে নিন শরীর ‘ডিটক্স’ করতে আর কী কী খেতে পারেন।

পান্তা ভাত: গরমে শরীর ঠান্তা রাখতে পান্তা ভাতের জুড়ি নেই। এই মরসুমে যত হালকা খাবার যায় ততই ভাল। আগের দিনের বাসি ভাত সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন, পরের দিন কাঁচা লঙ্কা, কাঁচা পেঁয়াজ, আলু মাখা, সর্ষের তেল আর গন্ধরাজ লেবু দিয়ে খেয়ে নিন পান্তা ভাত। শরীর ডিটক্স করতে এই খাবারের উপর ভরসা রাখাই যায়। পেটের সমস্যাও দূর হয়।

হলুদ চা: একটি পাত্রে এক কাপ জল, কাঁচা হলুদ ও আদা কুচি দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। এই ‘চা’ রোজকার ডায়েটে দু’বার রাখতেই পারেন। এই দুই উপাদানই বিপাকহার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। হজমশক্তি বৃদ্ধি করতেও এই পানীয় দারুণ উপকারী। শরীরের প্রতিরোধশক্তি বৃদ্ধি করতেও এই পানীয় দারুণ উপকারী।

শসার রায়তা: গরমের দিনে শরীর চাঙ্গা রাখতে এবং শরীর ডিটক্স করতে পাতে রাখতেই হবে রায়তা। দই হজম করতে যেমন সাহায্য করে তেমনই পেটের সমস্যা থেকে রেহাই পেতেও দইয়ের জবাব নেই। এক বাটি দইয়ের সঙ্গে শসা কুচি, পুদিনা পাতা কুচি, ভাজা জিরে গুঁড়ো, গোলমরিচ গুঁড়ো, বিটনুন দিয়ে ভাল করে ফেটিয়ে নিন। এক বাটি রায়তা অবশ্যই রাখুন রোজের ডায়েটে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।