MP Rachna Banerjee: ‘বড় বড় হাসপাতাল রেডি ডাক্তার নেই’, ‘সত্যি’ বলে বসলেন রচনা

24th December 2024 9:49 am State News
MP Rachna Banerjee: ‘বড় বড় হাসপাতাল রেডি ডাক্তার নেই’,  ‘সত্যি’ বলে বসলেন রচনা


রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা: তৃণমূল সাংসদের মুখে বিরোধীদের মনের কথা

রাজনৈতিক জগতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথচলা অনেকটা স্বাভাবিক ছিল না। এক সময়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী, এরপর রিয়ালিটি শোয়ের সঞ্চালিকা, আর এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা যেমন আলোচিত, তেমনই ভোট প্রচারের সময়ও তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য নানা বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। তবে এবার, সাংসদ হিসেবে তাঁর এক মন্তব্যে উঠে এসেছে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষত, গ্রামীণ এলাকার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অভাব, অব্যবস্থাপনা, এবং চিকিৎসার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকার অভিযোগ বারবার উঠেছে। যদিও রাজ্যের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব দাবি বারবার অস্বীকার করা হয়েছে, তবে তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে যেন এক ধরণের অনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেল।

মঙ্গলবার হুগলি জেলা সফরে গিয়ে সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “বড় বড় হাসপাতাল তৈরি করেছি, কিন্তু ডাক্তার নেই।” তাঁর মতে, শহরের চিকিৎসকরা এখন গ্রামাঞ্চলের হাসপাতালে যাওয়ার জন্য আগ্রহী নন। একদিকে উন্নত হাসপাতালে যেমন ডাক্তারদের অভাব রয়েছে, অন্যদিকে, শহর কেন্দ্রীক চিকিৎসকরা গ্রামীণ এলাকায় যাতায়াত করতে নারাজ। রচনা আরও বলেন, “এভাবে তো মানুষকে কলকাতায় চলে যেতে হবে, আর যেতে যেতে রাস্তার মধ্যে মারা যাবে।”

এই বক্তব্যে একদিকে যেমন রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা উঠে এসেছে, তেমনি বিরোধীরা দাবি করেছেন, এই কথাগুলি আগেও তাঁরা বলেছিলেন। বিজেপির সজল ঘোষ মন্তব্য করেছেন, "রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কি জানেন যে তিনি এখন কোন দলে আছেন?" তাঁর মতে, রচনার এই বক্তব্যে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি যে সমালোচনা উঠে এসেছে, সেটি দলের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। বিজেপি নেতাদের মতে, রচনার উচিত ছিল সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তোলা, বিশেষ করে সরকারের উদ্যোগ নিয়ে।

এদিকে, চিকিৎসক সংগঠনের নেতা উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়ও রচনার মন্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, "রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশেষে সঠিক কথা বললেন। সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং অরাজকতা চলছে।" তিনি দাবি করেন, যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তৈরি হলেও, এটি যে একটি বড় সমস্যা, সেটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুরবস্থা, চিকিৎসকদের অভাব, এবং জনগণের অসন্তোষ—এই বিষয়গুলো যে কোনো দলীয় বৈশিষ্ট্যের ঊর্ধ্বে, সেটি মনে করিয়ে দিচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি।

এখন দেখার বিষয় হল, এই ধরনের বক্তব্যের পর রাজ্য সরকার কি কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়, নাকি একে শুধুই রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা হিসেবে দেখবে। তবে, একটি বিষয় পরিষ্কার— স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে, এবং তা যে রাজনৈতিক দল বা নেতার পক্ষ থেকে উঠে আসবে, তা একদিন না একদিন হয়ে উঠবে।





Others News

পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ |

পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ |


সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা মেনে পশ্চিমবঙ্গে আজ প্রকাশিত হতে চলেছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই তালিকা প্রকাশ রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক স্তরে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।


ভোটার তালিকার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

  • মোট ভোটারের সংখ্যা: খসড়া তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৮ লক্ষ, যা এই চূড়ান্ত তালিকাতেও অপরিবর্তিত থাকছে।

  • বিশেষ ক্যাটেগরি বিভাজন: এবারের তালিকায় নামের পাশে বিভিন্ন বিশেষ মন্তব্য বা 'মার্ক' থাকছে। যাদের আবেদন সম্পূর্ণ মঞ্জুর হয়েছে, তাদের নাম স্বাভাবিকভাবেই তালিকায় থাকছে।

  • বাতিল হওয়া নাম: যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, তাদের নামের পাশে স্পষ্টভাবে "Deleted" (বাতিল) লেখা থাকবে।

  • বিচারাধীন আবেদন: যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথিপত্র এখনও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দ্বারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাদের নামের পাশে "Under Adjudication" (বিচারাধীন) উল্লেখ করা থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভিন রাজ্য থেকেও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে।

  • তালিকা দেখার সুবিধা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) ওয়েবসাইট এবং ECI Net অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি দেখা যাবে। এছাড়া জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বিডিও অফিসেও অফলাইন কপি সাধারণ মানুষের পরিদর্শনের জন্য উপলব্ধ থাকবে।


রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, এই প্রথমবার কোনো ভোটার তালিকায় 'Adjudication' বা বিচারাধীন মার্ক যুক্ত করা হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত এই যাচাই পর্ব চলবে এবং পরবর্তীতে একাধিক সাপ্লিমেন্টারি বা পরিপূরক তালিকাও প্রকাশ করা হবে।