বিধায়কদের মেডিক্যাল বিল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

31st December 2024 1:36 pm Political
বিধায়কদের মেডিক্যাল বিল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিতর্ক


কলকাতা: বিধায়কদের মেডিক্যাল বিল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের ৬ লক্ষ টাকার মেডিক্যাল বিল বিধানসভায় জমা দেওয়ার খবর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও বিধায়ক জানিয়েছেন, তিনি এই বিল জমা দেননি, তবে তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, কাঞ্চন বিলটি জমা দিতে পারেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এবং নিয়ম জানার পর তিনি তা জমা দেননি। এই বিতর্কের পর বিধায়কদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল বেড়েছে।

বিধায়কদের জন্য সরকার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে থাকে। বিশেষত, চিকিৎসার খরচের ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই, তবে চশমার বিলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পেতে পারেন বিধায়করা। একসময় চশমার বিল নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যেমন, মন্ত্রী মানব মুখোপাধ্যায়ের ৩০ হাজার টাকার বিল জমা দেওয়ার ঘটনায়। তবে, কোনো চিকিৎসা বিল নিয়ে সংশয় হলে স্পিকার সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেকে তদন্ত করতে পারেন।

বিধায়কদের মাসিক বেতন ৫০ হাজার টাকা, তবে এর সাথে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধাও রয়েছে। বিধায়কের ক্ষতিপূরণমূলক ভাতা ৩ হাজার টাকা, বিধানসভা এলাকার জন্য ৪ হাজার টাকা, এবং কম্পিউটার ও ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে, একজন বিধায়ক মাসে প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার টাকা পান, তবে প্রফেশনাল ট্যাক্স বাদে প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার ৮০০ টাকা হাতে আসে।

বিধায়কদের জন্য আরও অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন রাজ্যভিত্তিক ট্রেনের যাতায়াতে কোনো খরচ লাগে না, সরকারি পরিবহণে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারেন। কলকাতায় এমএলএ হস্টেলে মাত্র এক টাকায় থাকা যায়, তবে বিধায়কের কেন্দ্র ৬০ কিলোমিটার দূরে হতে হবে।

এছাড়া, বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য দৈনিক ভাতা প্রদান করা হয়, এবং ল্যান্ডলাইন ফোন, খাম, লেটারহেড সহ অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়া যায়।

বিধায়কদের চিকিৎসা বিল, বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও, এসব নিয়ম অনুযায়ী করা হয়ে থাকে, এবং স্পিকার যদি মনে করেন তবে বিষয়টি তদন্তের জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন।





Others News

কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য ‘নয়া করিডর’, নির্বাচনী বছরেই তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা |

কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য ‘নয়া করিডর’, নির্বাচনী বছরেই তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা |


সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার ঠিক আগেই পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গতকাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্পোন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রের এই ঘোষণাকে ‘ভোটমুখী জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বাজেটে বাংলার প্রাপ্তি: কী কী ঘোষণা?

অর্থমন্ত্রীর বাজেট ভাষণে পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের (‘পূর্বোদয়’) ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বাংলার জন্য প্রধান ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • ডানকুনি-সুরাত পণ্যবাহী করিডর: পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাত পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (Dedicated Freight Corridor) তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি রাজ্যের লজিস্টিক ও পরিবহন শিল্পের জন্য গেম-চেঞ্জার হতে পারে।

  • বেনারস-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল: উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত করতে বেনারস থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাই-স্পিড রেল করিডর তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে।

  • দুর্গাপুর শিল্প করিডর: ইস্ট-কোস্ট ইকোনমিক করিডরের অংশ হিসেবে দুর্গাপুরে একটি নতুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল নোড বা শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: রাজ্যের ক্ষোভ বনাম কেন্দ্রের দাবি

বাজেট ঘোষণার পরপরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাজেটকে ‘দিশাহীন’ ও ‘জনবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। ডানকুনি করিডরের কথা আমি রেলমন্ত্রী থাকাকালীনই বলেছিলাম, এটা নতুন কিছু নয়। নির্বাচনের আগে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।” তৃণমূলের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ বা আবাস যোজনা নিয়ে রাজ্যের বকেয়া টাকার বিষয়ে বাজেটে কোনও স্পষ্ট উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, “এই বাজেট পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নে নতুন জোয়ার আনবে। ডানকুনি ও দুর্গাপুরের প্রকল্পগুলি রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করবে।”

আজ থেকে শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা

বাজেট রাজনীতির উত্তাপের মধ্যেই আজ, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পর্ষদের তরফে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ১৪৪ ধারা জারি রাখা হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস রুখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ইন্টারনেট পরিষেবায় নজরদারি চালানো হচ্ছে।