কলকাতা: বিধায়কদের মেডিক্যাল বিল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিতর্ক
উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের ৬ লক্ষ টাকার মেডিক্যাল বিল বিধানসভায় জমা দেওয়ার খবর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও বিধায়ক জানিয়েছেন, তিনি এই বিল জমা দেননি, তবে তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, কাঞ্চন বিলটি জমা দিতে পারেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এবং নিয়ম জানার পর তিনি তা জমা দেননি। এই বিতর্কের পর বিধায়কদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল বেড়েছে।
বিধায়কদের জন্য সরকার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে থাকে। বিশেষত, চিকিৎসার খরচের ক্ষেত্রে কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই, তবে চশমার বিলের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পেতে পারেন বিধায়করা। একসময় চশমার বিল নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যেমন, মন্ত্রী মানব মুখোপাধ্যায়ের ৩০ হাজার টাকার বিল জমা দেওয়ার ঘটনায়। তবে, কোনো চিকিৎসা বিল নিয়ে সংশয় হলে স্পিকার সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেকে তদন্ত করতে পারেন।
বিধায়কদের মাসিক বেতন ৫০ হাজার টাকা, তবে এর সাথে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধাও রয়েছে। বিধায়কের ক্ষতিপূরণমূলক ভাতা ৩ হাজার টাকা, বিধানসভা এলাকার জন্য ৪ হাজার টাকা, এবং কম্পিউটার ও ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে, একজন বিধায়ক মাসে প্রায় ১ লক্ষ ২২ হাজার টাকা পান, তবে প্রফেশনাল ট্যাক্স বাদে প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার ৮০০ টাকা হাতে আসে।
বিধায়কদের জন্য আরও অনেক সুবিধা রয়েছে, যেমন রাজ্যভিত্তিক ট্রেনের যাতায়াতে কোনো খরচ লাগে না, সরকারি পরিবহণে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারেন। কলকাতায় এমএলএ হস্টেলে মাত্র এক টাকায় থাকা যায়, তবে বিধায়কের কেন্দ্র ৬০ কিলোমিটার দূরে হতে হবে।
এছাড়া, বিধানসভা অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য দৈনিক ভাতা প্রদান করা হয়, এবং ল্যান্ডলাইন ফোন, খাম, লেটারহেড সহ অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়া যায়।
বিধায়কদের চিকিৎসা বিল, বেতন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও, এসব নিয়ম অনুযায়ী করা হয়ে থাকে, এবং স্পিকার যদি মনে করেন তবে বিষয়টি তদন্তের জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন।