নিজে নিজেই মরবে ক্যান্সার কোষ কিল সুইচ আবিষ্কার মার্কিন বিজ্ঞানীদের

15th November 2023 10:48 am Country News
 নিজে নিজেই মরবে ক্যান্সার কোষ কিল সুইচ আবিষ্কার মার্কিন বিজ্ঞানীদের


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হল ক্যান্সার। ২০২০ সালে কর্কট রোগে বিশ্ব জুড়ে প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ভারতেও ক্রমে ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। ২০২২-এর ডিসেম্বরে সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য জানিয়েছিলেন, ২০২০ থেকে ২০২২-এর মধ্যে ভারতে ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বেড়েছে।২০২২-এ ভারত জুড়ে ৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই রোগের শিকার হয়েছিলেন। এই পরিসংখ্যানগুলি থেকেই ক্যান্সারের বিপদের আঁচ পাওয়া যায়। সবথেকে ভয়ের বিষয়, এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের কোনও ১০০ শতাংশ সফল চিকিত্‍সা নেই। গত কয়েক দশকে এই বিষয়ে অনেকটাই এগিয়েছেন বিজ্ঞানীরা, তবে, এখনও এই রোগ হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে, এবার ক্যান্সারের চিকিত্‍সা সংক্রান্ত গবেষণায় ঘটল বড় অগ্রগতি। ক্যান্সার কোষকে হত্যা করতে পারে, এমন ‘কিল সুইচ’ আবিষ্কারের দাবি করলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া প্রদেশের স্যাক্রামেন্টোয় অবস্থিত ‘ইউসি ডেভিস কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারে-এর বিজ্ঞানীরা।তাঁদের দাবি, মানব কোষের রিসেপ্টর অংশে একটি বিশেষ প্রোটিন রয়েছে। ওই প্রোটিনকে ক্যান্সার কোষ মারার জন্য নকশা করা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কোষের সিডি৯৫ রিসেপ্টর বা এফএএস-এর অংশে এই প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন রিসেপ্টরগুলি থাকে কোষের ঝিল্লি বা মেমব্রেনে। এই প্রোটিনগুলি রিসেপ্টরের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। তাদের একবার জাগিয়ে দিলে, অর্থাত্‍, সক্রিয় করা হলে, তারা একটি বিশেষ সংকেত প্রকাশ করে। সেই সঙ্কেত ক্যান্সার কোষগুলিকে নিজে থেকেই ধ্বংস করে দেয়।মার্কিন গবেষকরা এই চিকিত্‍সা পদ্ধতির নাম দিয়েছেন সিএআর টি-সেল থেরাপি। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রথমে কোনও ক্যান্সার রোগীর রক্ত থেকে টি-কোষ সংগ্রহ করা হয়। তারপর, গবেষণাগারে ওই টি-কোষগুলির জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে কাইমেরিক অ্যান্টিজেন রিসেপ্টর বা সিএআর (CAR) নামে একটি রিসেপ্টর তৈরি করা হয়। এরপর, ওই রিসেপ্টরগুলিকে ফের রোগীর শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই ওই সক্রিয় কিল সুইচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলিতে হত্যা করা শুরু করে।

 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।