ফের পৃথিবীর দিকে আসছে চন্দ্রযান-3 কিন্তু হঠাত্‍ কেন এই প্রত্যাবর্তন?

16th November 2023 6:44 pm Country News
ফের পৃথিবীর দিকে আসছে চন্দ্রযান-3 কিন্তু হঠাত্‍ কেন এই প্রত্যাবর্তন?


চলতি বছরের 23 আগস্ট, ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-3 অবতরণ করে ইতিহাস তৈরি করেছে। চন্দ্রযানের বিক্রম ল্যান্ডার এবং প্রজ্ঞান রোভার চাঁদের পৃষ্ঠের অনেক খনিজ সহ আরও অনেক বিষয়ে গবেষণা করে চলেছে। তবে এখন ISRO চন্দ্রযান-3 সম্পর্কিত আরেকটি বড় আপডেট শেয়ার করেছে। চন্দ্রযান-3-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আবার পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে।ISRO জানিয়েছে, LVM3 M4 লঞ্চ ভেহিক্যালের উপরের অংশ ‘ক্রায়োজেনিক, যা চন্দ্রযান-3 মহাকাশযানকে নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠিয়েছিল। তা বুধবার পুনরায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছে। ISRO-র মতে, চন্দ্রযান-3 মহাকাশযানের অংশ ছিল রকেট বডি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আবার প্রবেশ করেছে।যখন চন্দ্রযান-3 উত্‍ক্ষেপণ করা হয়, তখন লঞ্চার যান LVM3 M4-এর ক্রায়োজেনিক উপরের পর্যায় ‘প্যাসিভেশন’ চালায়। এই প্রক্রিয়ায়, সমস্ত অবশিষ্ট প্রোপেলান্ট এবং শক্তির উত্‍সগুলি সরানো হয়, যাতে বিস্ফোরণের কোনও রকম ঝুঁকি না থাকে। তখন জাতিসংঘ (UN) এবং ইন্টার-এজেন্সি স্পেস ডেব্রিস কোঅর্ডিনেশন কমিটির (IADC) সমস্ত নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছিল। এখন LVM3 M4-এর ক্রায়োজেনিক উপরের স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পুনঃপ্রবেশ করেছে বলেই জানাচ্ছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।124 দিনের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ…রকেটের এই অংশটি 15 নভেম্বর দুপুর 2.42 টায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। ISRO-এর মতে, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের উপরে একে স্থাপন করা হয়েছে। চূড়ান্ত গ্রাউন্ড ট্র্যাক ভারতের উপর দিয়ে যায়নি। এই রকেট বডি তার উত্‍ক্ষেপণের 124 দিনের মধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশ করেছে।তবে বিক্রম আর প্রজ্ঞান এখন কোথায়?ল্যান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞান সফলভাবে তাদের মিশন সম্পন্ন করেছে এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অনেক গবেষণা চালিয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পরে, অর্থাত্‍ চাঁদে অন্ধকার নেমে আসার পরে ISRO উভয় যন্ত্রকেই স্লিপ মোডে রেখেছিল। তবে, বিক্রম ল্যান্ডারের রিসিভার চালু রাখা হয়েছিল, যাতে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।